Friday, 28 April 2017

খড়কুটো

 তিন্তিড়ী বৃক্ষটির পঞ্চম প্রজন্ম চলিতেছে ।  ইহার অর্থ চার চারিটি বৃক্ষের ক্ষয়ের পর এই নবীন বৃক্ষটির উদ্ভাস , একই স্থানে । ইহা এখনও নবীন । একটি তিন্তড়ী বৃক্ষের  আয়ুষ্কাল যদি আনুমানিক  দুই শত বৎসর হয় , তাহা হইলে নেহাত  গালগল্প না হইয়া  কিঞ্চিত  ঐতিহাসিক সত্য  ইহার মধ্যে থাকিতেও পারে । বালক রামতনু সুন্দর সুমিষ্ট কন্ঠস্বর আয়ত্তের বাসনায় এই নবীন বৃক্ষটির পূর্ব প্রজন্ম দের পত্র ছিঁড়িয়া ছিঁড়িয়া প্রত্যহ খাইতেন । ইহার  সপক্ষে কোন  যুক্তি উপস্থাপন করা কঠিন । ইতিহাসের স্রোতস্বিনী নানান রসদ সংগ্রহ করিতে করিতে চলে ।  স্বামী হরিদাস তাহার সঙ্গীত গুরু  ছিলেন । তদুপরি সুফি সন্ত মহম্মদ ঘাউস রামতনুর উপর  উদার হস্তে তাঁহার স্নেহচ্ছায়া বিছাইয়াছিলেন ।  তোমর রাজকুলের রানি  মৃগ নয়নীও তাঁহার সঙ্গীত কুশলতায় রামতনুকে মুগ্ধ করিয়াছিলেন । তখন মুঘল শাসন  দুর্বার গতিতে অগ্রগামী । রামতনু , তানসেন হইয়া সম্রাট আকবরের নবরত্ন সভার উজ্জ্বল রত্ন হইয়া বসিলেনঅসামান্য  কালজয়ী অবদান রাখিলেন । মিয়াঁ উপাধি লাভ করিলেন। মেঘ  গাহিয়া বর্ষণ আনিলেন , দীপক গাহিবামাত্র দীপে দীপে আলো জ্বলিয়া উঠল । মিয়াঁ কি টোড়ি , মিয়াঁ কি মলহার, মিয়াঁ কি সারঙ্গ সর্বত্র সুরের ইন্দ্রধনু রচিয়া দিল । জীবনদীপ নির্বাপিত হইলে তানসেন সমাধিস্থ হইলেন তাঁহার আধ্যাত্মিক গুরু সন্ত মহম্মদ ঘাউসের সমাধির নিকটেই । 




 তানসেনের সমাধির পার্শ্বেই ঘুমাইতেছেন তাঁহারই পুত্র বিলাস খান । কর্ণ পাতিয়া শুনিলেই বুঝিবেন কোথা হইতে আশাবরী ভাসিয়া আসিতেছে । পর ক্ষণেই মনে হইবে আহা , ইহার মধ্যে টোড়ি ঢুকিয়া পড়িতেছে । বিলাস খান যে রাগ সৃষ্টি করেন তাহা বিলাস খানি টোড়ি নামে পরিচিত । জনশ্রুতি হইল পিতার মৃত্যুর পর শোকগ্রস্ত পুত্র মনোবেদনা উজাড় করিয়া রাগ বাঁধিলেন এবং সেই প্রাণহীন দেহ হস্ত আন্দোলন করিয়া জানাইয়া দিল যে বাঁধনখানি সঠিক হইয়াছে 

No comments:

Post a Comment